রিমিকে দেখে অচেনা এক আবহে থমকে দাড়ায় রিহান। অনেক দিন পর দেখা।দামী বেনারসিতে রিমিকে পরির মত লাগছিল।অবশ্য রিহানের চোখে রিমি পরীর মতই সবসময় ছিল। কেবল ডানাটা ছিলনা বলে আপসুস করতো রিহান।
ঠাট্টা করে বলতো,`
--এই মেয়ে তোমার ডানা নেই কেন? আমাকে নিয়া মেঘেদের সাথে উড়তে তাহলে। আচ্ছা তোমার জন্মের সময় কি ডাক্তার তোমার ডানা কেটে দিয়েছিল? আমার তো মনে হয় কেটে দিয়েছে।
রিমি হাসতে হাসতে ওর কাধে মাথাটা রেখে বলতো,
-হুম গাধা, তাইতো আমি তোমার ডানা কাটা পরি।
লাজুক রিহান তখন নিজেকে পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী ছেলে মনে করতো।
`
![]() | |
| lover boy |
প্রিয় মানুষটা যখন মাথা কাধে রাখে তখন সবারই হয়তো মনে হয় পৃথিবীতে সে সবচেয়ে সুখী ব্যক্তি। এমন ভাগ্যবান কয়জন হতে পারে।
এমন রোমান্টিক কাপল দেখে যে কোন কারই প্রেম করতে শখ জাগবে।
হিংসে করে হয়তো কোন ছেলে স্বপ্ন বুনবে, ইশ এরকম যদি একটা মেয়ে আমার জীবনে আসতো তাহলে রাজরানী করে রাখতাম। কোন মেয়ে হয়তো কল্পনা করবে রিহানের মত এমন একটা রাজকুমারের।
`
রিমির পরিবারের আর্থিক অস্বচ্ছলতার কারনে রিহান পড়াশুনার ফাকে একটা চাকুরি নিয়ে রিমিকে সাপোর্ট দিতে থাকে পড়ালেখায়।বিয়ের আগেই ভালবাসার মানুষটির প্রতি এমন দায়িত্ব কয়জন ই বা নিতে পারে। রিমির স্বপ্ন পুরন করার জন্য রিহান খুব পরিশ্রম করে। পড়ালেখা, চাকুরি,রিমিকে টাইম দেয়া।
এত সব ব্যস্ততার মাঝেও রিহানের মুখে ক্লান্তির চাপ দেখা যেতো না। রিমির হাসিমাখা চন্দ্রমুখ আর হরিনী চোখটা দেখলেই রিহান সব ভুলে যেতো।
`
রিহান রেজাল্ট খারাপ করে পরিক্ষায়। রিমি ভাল রিজাল্ট করে। চাকুরির কারনে রিহান ভাল করে পড়তে পারেনি। তবুও অখুশি নয়, রিমিকে নিয়েই সব স্বপ্ন রিহানের। রিমি একদিন অনেক বড় কিছু হবে। রিহানের স্বপ্ন জুড়ে রিমি, নিজের ভবিষ্যত মানেই রিমি। রিমির স্বপ্ন সফল করার জন্য সে আরো কঠোর পরিশ্রম করতে থাকে।
`
একসময় পড়ালেখা গ্যাপ দিয়া দেয় নিজের প্রিয় মানুষটার জন্য।। রিমির স্বপ্ন ধীরে ধীরে সামনে এগুচ্ছে। সাথে রিহানের ভালবাসা।
`
রিমি একটা ভাল সরকারী জব পায়। রিহান সেদিন খুব কেদেছিল আনন্দে। নিজের জন্য হলেও এত খুশি হতনা।
`
রিমি আজকাল চাকুরি নিয়া খুব ব্যস্ত থাকে। বড় বড় লোকদের সাথে ওঠাবসা।
তাতেও রিহানের দু:খ নেই, বিয়ের পর তো একসাথেই থাকবে।
একদিন রিমি রিহানকে বলল তার চাকুরীর কাজে সে একটু বাহিরে যাবে, আপাতত ২ মাস যোগাযোগ করতে পারবে না।
`
রিহান হেসে বলে দিল,
--আচ্ছা মাঝে মাঝে ফোন দিবে তো??
--দেখো রিহান, চাকুরির কাজে যাচ্ছি, ওখানে ওসব নিয়া আপাতত ব্যস্ত থাকতে হবে। চেষ্টা করব।
`
রিহান একটু মুচকি হাসি দিয়ে বলল,
--আচ্ছা বাপ ঠিকাছে, সময় হলে করিও।
`
রিমির এমর পরিবর্তনে রিহান একটুও ঘাবড়ে যায়নি। ভালবাসে তো, খুব বিশ্বাস করে। তাই কষ্ট পেলেও নেগেটিভ চিন্তা মাথায় আনতো না।
`
যাহোক, কেটে গেল ২ মাস। আজ অনেক দিন পর রিহানের সাথে দেখা। প্রথমেই বলেছিলাম অনেক দিন পর রিমিকে দেখে থমকে দাড়ায় রিহান। দামী বেনারসিতে ওকে পরির মত লাগছিল।
রিহানকে দেখে রিমি ওর কাছে আসল।
সাথে ছিল এক বড় বাবু। স্যুট পড়া। গলায় আবার টাই। রিহান ভাবল হয়তো রিমির বস হবে। রিহানের সাথে পরিচয় করাবে।
`
রিমি রিহানকে দেখিয়ে ঐ ভদ্র বাবুটাকে বলল,
--এই ছেলেটা আমাকে পড়ালেখায় অনেক সাহায্য করেছে, ওর জন্য আজ এখানে আমি।
রিহান রিমির কথা থামিয়ে দিয়ে বলল,
--ওটা আমার দ্বায়িত্ব ছিল।
`
রিমি এবার একটা চেক বের করল, টাকার চেক। রিহানকে দিয়ে বলল,
--কত লিখবে লিখে নাও
`
রিহান তখনো কিছু বুঝে উঠতে পারছে না কি ঘটতে যাচ্ছে তার সাথে।
--মানে রিমি?? কি লিখব??
--টাকা আরকি। তোমার একটা ভবিষ্যত আছেনা?? সেজন্য।
আচ্ছা আমিই টাকার অংকটা বসিয়ে দিচ্ছি, তুমি ব্যংক থেকে তুলে নিও। আর যদি কোন চাকুরির প্রয়োজন পড়ে তো যোগাযোগ করিও।
`
রিহানের মুখ থেকে কথা বের হচ্ছিল না। নিস্তব্দ পাথরের মত কেবল রিমিকে দেখছিল। চোখ দিয়ে পানিও পড়ছে না! হুমায়ুন আহমেদ বলেছিলেন, বেশি কষ্টে মানুষ কাদতে পারেনা। রিহানকেও তাই দেখাচ্ছে।
`
ততক্ষনে রিমি বড় বাবুর
সাথে চলে গেছে। হাতে অবশ্য চেকটা দিয়ে গেছে।
বাক হারা রিহান রিমির বান্ধবীর কাছে ফোন দিল,
ওপাশ থেকে ফোনে একজন বলল,
--রিমির তো দু মাস আগে বিয়ে হয়েছে। তোমাকে বলেনি রিমি??ও তো আমাকে বলেছে আজ ওর হাজবেন্ডকে নিয়া তোমার সাথে দেখা করবে।
হ্যালো রিহান,,,, হ্যালো,,,,,হ্যালো,,,,কথা বলছো না কেন,,,,
`
এমনি কিছু শব্দ দুর থেকে ভেসে আসছিল অসহায় ফোনে।এ পাশ থেকে কোন রিপ্লে যাচ্ছিল না। দুর আকাশের মানুষ যে রিপ্লে দিতে পারেনা হয়তো ফোনের ওপাশের মানুষটি বুঝেনি,,,,,,,,,,,,,
`
`Written by: Lover boy

Nice story I like the love story
ReplyDelete